ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আজ বুধবার সকালে একযোগে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
বন্ধ ঘোষণা করা স্টেশনগুলোর তালিকায় দিল্লির ব্যস্ততম সংযোগস্থল— রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মান্ডি হাউস, আইটিও এবং খান মার্কেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো রয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর তালিকা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমআরসি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নলিখিত স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী প্রবেশ বন্ধ থাকবে:
হলুদ লাইন (Yellow Line): লোক কল্যাণ মার্গ, প্যাটেল চক, জোর বাগ।
ব্লু ও ভায়োলেট লাইন (Blue & Violet Line): রাজীব চক, মান্ডি হাউস, বারোখাম্বা রোড, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম মার্গ, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
যাত্রীদের জন্য স্বস্তি: ডিএমআরসি জানিয়েছে, স্টেশনগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ থাকলেও রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেন পরিবর্তনের (ইন্টারচেঞ্জ) সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
শিক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগে 'পার্লামেন্ট ঘেরাও' বা পার্লামেন্ট অভিমুখে যাত্রার ডাক দিয়েছিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। তাদের এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে গত সোমবার থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার আন্দোলনকারী জড়ো হতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও বিক্ষোভকারীদের সংসদ ভবনের দিকে এগোতে না দিতে সোমবার থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয় এবং মেট্রো চলাচলে বেশ কিছু সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আন্দোলন অব্যাহত থাকায় আজ পুনরায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ।