২২ জুলাই, ২০২৬

চোর ধরতে ছাত্রদল নেতাদের অভিনব কৌশল

চোর ধরতে ছাত্রদল নেতাদের অভিনব কৌশল

বুদ্ধির নিখুঁত ফাঁদ পেতে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে দুই সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীর চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দুই নেতা ও তাঁদের বন্ধুরা। পরে আটককৃতদের সুধারাম মডেল থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া দুই ছাত্রনেতা হলেন— নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল পাটোয়ারী ফারহান ও ইমদাদ উল্যাহ পরশ (উভয়েই স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— দক্ষিণ হাতিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচরের পশ্চিম চরলিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। তারা দুজনেই পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

ঘটনার নেপথ্য ও ‘ফাঁদ’ যেভাবে পাতা হলো:
বাইক চুরি: গত ১২ জুলাই রাতে ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও দৈনিক যায়যায়দিনের জেলা প্রতিনিধি আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৯ মে সোনাপুর এলাকা থেকে চুরি হয় ছাত্রদল নেতাদের বন্ধু জয়দেব নাথের মোটরসাইকেল।

টাকা দাবি ও প্রতারণা: জয়দেবের বাইক চুরির পর এক অচেনা ব্যক্তি কল দিয়ে সেটি ফেরতের বদলে বিকাশে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং এরপর ফোন বন্ধ করে দেয়।

চতুর কৌশল: ১৪ ও ১৫ জুলাই ফারহান ও পরশের বুদ্ধিতে ভিন্ন একটি অচেনা নম্বর থেকে ওই চোরের সাথে যোগাযোগ শুরু করা হয়। কৌশলে কথার ছলে তার অবস্থান মাইজদী নতুন বাসস্ট্যান্ড বলে নিশ্চিত হন তারা।

হাতে-নাতে আটক: তথ্য পাওয়া মাত্রই ফারহান, পরশ, ইমন ও জয়দেব দ্রুত সেখানে গিয়ে ওই চোরকে রেস্তোরাঁয় আটকে ফেলেন। সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণের মুখে চোর ফয়সাল অপরাধ স্বীকার করে এবং নিজের গ্যাংয়ের অপর সদস্য জাহাঙ্গীরকে টাকা দেওয়ার বাহানায় ফোন দিয়ে সেখানে ডেকে আনে। জাহাঙ্গীর একটি চুরির বাইক নিয়ে আসার সাথে সাথেই চার বন্ধু দুজনকেই কাবু করে ফেলেন।

মালিক শনাক্ত ও পুলিশের ভূমিকা:
আটক জাহাঙ্গীরের সাথে থাকা বাইকটিতে নোয়াখালী হোন্ডা গ্যালারির কাগজ দেখে সন্দেহ হলে ফারহান মেমো থেকে ক্রেতার নাম জানতে পারেন—যা ছিল সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জুর। তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসআই ফখরুল ইসলাম ও ওসি তাদের চোর চক্রের সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য:
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২টি চুরি ও অপরাধের মামলা রয়েছে। তারা নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলা থেকে বাইক চুরি করে অন্য জেলায় পাচার করত। মামলা দায়ের শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।