২২ জুলাই, ২০২৬

নোয়াখালীতে দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীতে দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বহুল আলোচিত ফয়েজ আহমেদ হত্যা ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। একই যৌথ অভিযানে দুটি সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত আরও এক পলাতক আসামিকে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১. ওসমান (২৩): ফয়েজ আহমেদ হত্যা মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
২. শহিদুল ইসলাম শাওন (২৫): ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
৩. মো. মোস্তাফা কামাল: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার দুটি মামলায় মোট ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

অভিযানের বিবরণ:
র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ (নোয়াখালী)-এর নেতৃত্বে র‍্যাব-১, র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৮ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে:

ঢাকা (হাজারীবাগ): মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টায় গজমহল রোড থেকে ফয়েজ হত্যা মামলার আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভোলা (ভেলুমিয়া): মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ভোলা সদর থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাফা কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজীপুর (কোনাবাড়ী): বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ৫ মিনিটে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট:
ফয়েজ আহমেদ হত্যা: গত ১১ জুন রাতে সোনাইমুড়ীর নদোনা ইউনিয়নে বাড়ির সামনে কথা বলার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে ফয়েজ আহমেদ ও তাঁর দুই সঙ্গীকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে অন্য স্থানে নিয়ে পুনরায় নির্যাতনে ফয়েজ গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজাউল করিম মামলা দায়ের করেন।

ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা: সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারের ‘মিতালী বেকারি’র মালিক আব্দুর রহিমকে (৫৭) টাকা-পয়সার লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বেকারি থেকে তুলে নিয়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ভোরে তিনি মারা যান। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা:
র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার জানান, গ্রেপ্তারকৃত ওসমানকে ঢাকার হাজারীবাগ থানায়, শহিদুল ইসলাম শাওনকে সোনাইমুড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট এবং মোস্তাফা কামালকে ভোলা সদর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।