দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের ১৯ একর ৪০ শতক আয়তনের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনাইডাঙ্গা জলাশয়’ অবশেষে ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত ও প্রশাসনের বিভিন্ন ধাপের আইনি প্রক্রিয়া শেষে উপজেলা প্রশাসন ‘গোপালনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’কে জলাশয়টি হস্তান্তর করে। ইজারা পাওয়ার পর সমিতির সদস্যরা আনন্দঘন পরিবেশে জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন।
ইজারা ও আইনি জটিলতার পটভূমি
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়:
মেয়াদ ও আয়তন: জলাশয়টি ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মোট ৩ বছরের জন্য ইজারা বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শুরুর বিরোধ: প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় জলাশয়টি ‘গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র অনুকূলে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জলমহাল ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত হকদার দাবি করে ‘গোপালনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’ আবেদন জানায়।
আইনি লড়াই: ইজারা স্বত্ব নিয়ে দুই সমিতির টানাপোড়েন গড়ায় জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত।
চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও মাছের পোনা অবমুক্ত
সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে গত ১৯ জুলাই ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী জলাশয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গোপালনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট ইজারা হস্তান্তর করেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জলাশয়ের মালিকানা পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমিতির সদস্যরা। ইজারা পাওয়ার পরপরই জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করা হয়। এ সময় গোপালনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি স্বপন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক গোপাল হাওলাদারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।