২২ জুলাই, ২০২৬

যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

চলমান ইরান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ ইতোমধ্যেই ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। রিপাবলিকান প্রশাসনের অজনপ্রিয় এই যুদ্ধের খরচ চালাতে ও সংকট মেটাতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত জরুরি তহবিল দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মার্কিন সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেন। ইরানে নতুন করে ভারী বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

তহবিল সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচ হিসাব করে এই ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব দেওয়া হলেও, পেন্টাগনের এই হিসাব পরিষ্কার নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত মার্চেই যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার খরচ হয়েছিল বলে জানা যায়।

যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৯ হাজার কোটি (৯০ বিলিয়ন) ডলারের জরুরি তহবিল চেয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের বাজেট অনুমোদনেরও জোরালো আহ্বান জানান হেগসেথ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে এই বাজেট অনুমোদন না করা হলে সামরিক প্রশিক্ষণ কাটছাঁট করতে হবে। পেন্টাগনের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটে এই যুদ্ধ বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করায় সেনাসদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আইনপ্রণেতাদের ক্ষোভ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ ও অতিরিক্ত বাজেটের দাবি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা: সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, "প্রেসিডেন্ট সংঘাত বাড়াচ্ছেন এবং এটিকে আরেকটি 'অনন্তকালের যুদ্ধে' পরিণত করছেন।" অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সরকারের কথা ও কাজের কোনো মিল নেই।

ভোটের সমীকরণ: প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য হওয়ায় এই জরুরি বাজেট বিল পাস করতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধের ব্যয়কে জনগণের জীবনযাত্রার মূল্যবৃদ্ধির সাথে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

সংঘাতের মাত্রা ও হতাহতের চিত্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর হামলা আরও জোরদার হয়েছে।

মার্কিন সেনার হতাহত: যুদ্ধক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন।

হামলার নতুন হুমকি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, তেলের খনিসহ ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ ও স্থলবাহিনী পাঠানোর হুমকি দিয়ে সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছেন।