২০ জুলাই, ২০২৬

সাঁথিয়ায় সালিশে জুতা মারার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাঁথিয়ায় সালিশে জুতা মারার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পাবনার সাঁথিয়ায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে জুতা মারার ঘটনায় এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী রোজিনা খাতুন গত ১৩ জুলাই সাঁথিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৫০৬, ১১৪, ৩৪ এবং ৬৪১/৬৪৭ ধারায় মামলাটি রুজু করে।

এজাহারে বলা হয়, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত সালিশকারীরা মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেন। তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি। পরে সালিশকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি তাকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করেন। ঘটনাস্থল থেকে বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তার স্ত্রী থানায় মামলা করেন।

মামলায় গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাস্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলীসহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে প্রতিবেশী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মহব্বৎ আলী খাঁকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন। পরে বিষয়টি গ্রাম্য সালিশে ওঠে এবং সেখানে তাকে জুতা মারার শাস্তি দেওয়া হয়।