২০ জুলাই, ২০২৬

মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিরামপুরে কর্মশালা

মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিরামপুরে কর্মশালা

দিনাজপুরের বিরামপুরে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালার আয়োজন করে ল্যাম্ব-এর কমিউনিটি সেফটি শিল্ড (সিএসএস) প্রকল্প। এতে আর্থিক সহযোগিতা দেয় ল্যাম্ব হেলথ–ইউকে।

কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল মানব পাচার ও এসজিবিভি-সংক্রান্ত ঘটনার কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য রেফারেল পথনির্দেশনা সম্পর্কে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের অবহিত করা এবং তাদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে মানব পাচার ও এসজিবিভি মামলার সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা এতে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে। বিদেশে যাওয়ার আগে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা জরুরি, কারণ মানব পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ল্যাম্ব-এর কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিলাস পৌল তিগ্যা, সিএইচডিপি ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মানব পাচার ও এসজিবিভির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

আলোচনায় আরও জানানো হয়, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকদের আশা, কর্মশালায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও প্রণীত এসওপি স্থানীয় পর্যায়ে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।