২০ জুলাই, ২০২৬

জেলের জালে উঠল ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়!

জেলের জালে উঠল ২০ কেজির ‘সামুদ্রিক শোল’, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়!

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশালাকার এক সামুদ্রিক শোল মাছ, যার ওজন প্রায় ২০ কেজি! স্থানীয় জেলেদের কাছে মাছটি ‘মথু’ বা ‘দাঁতিনা সুরমা’ নামেও বেশ পরিচিত। সচরাচর বাজারে এত বড় আকারের সামুদ্রিক শোল না মেলায় এটি দেখতে স্থানীয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মানুষের কৌতূহলী ভিড় জমে যায়।

আলীপুর আড়তে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি
আজ সোমবার সকালে মাছটি বিক্রির জন্য কলাপাড়ার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ‘মেসার্স ফাইভ স্টার ফিস’ আড়তে আনা হয়। সেখানে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ৭০০ টাকা কেজি দরে মোট ১৪ হাজার টাকায় মাছটি যৌথভাবে কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুর রহমান খান ও সোহাগ আহমেদ। বিরল এই মাছটি পরিবারের জন্য কিনেছেন বলে জানান এই দুই ব্যবসায়ী।

মাছটি শিকার করা জেলে রুহুল আমিন জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই গত ৯ দিন ধরে গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরছিলেন তাঁরা। গত শনিবার সমুদ্রে ফেলা জালে বিশাল এই শোল মাছটি আটকা পড়ে। এরপর গতকাল রোববার বিকেলে সমুদ্র থেকে মাছটি নিয়ে ঘাটে ফেরেন তাঁরা।

যা বলছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজীব সরকার মাছটির ছবি দেখে নিশ্চিত করেছেন যে, এর বৈজ্ঞানিক নাম Rachycentron canadum। এটি গভীর সমুদ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাংসাশী প্রজাতি। টর্পেডো আকৃতির লম্বাটে দেহের এই মাছটির দুই পাশে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত একটি সুস্পষ্ট সাদা অনুভূমিক ডোরা থাকে, যা দেখে সহজে এটিকে চেনা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, সামুদ্রিক শোল গভীর সমুদ্রের একটি বিরল প্রজাতির মাছ। সাগরের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় খাবার পেলে এগুলো আকারে বেশ বড় হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত এমন বড় মাছ ধরা পড়লে উপকূলীয় জেলেদের ভাগ্য বদলানোর পাশাপাশি তা দেশের মৎস্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।