২০ জুলাই, ২০২৬

হারের পর স্প্যানিশ ফুটবলারকে পিটিয়ে আলোচনায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস!

হারের পর স্প্যানিশ ফুটবলারকে পিটিয়ে আলোচনায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস!

চরম উত্তেজনায় ঠাসা মেগা ফাইনাল শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। মাঠজুড়ে তখন প্রথমবার বিশ্ব জয়ের উল্লাসে মত্ত স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ঠিক তখনই খেলার মাঠের সমস্ত সৌন্দর্য ও স্পোর্টসম্যানশিপের ইতি টেনে ফুটবল বিশ্বকে হতবাক করে দিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য! শিরোপা হারানোর হতাশা আর ক্ষোভ সামলাতে না পেরে মেজাজ হারিয়ে স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

তর্ক থেকে হাতাহাতি ও মারধর
মাঠে শেষ বাঁশি বাজার পর যখন স্পেনের উৎসব শুরু হয়, ঠিক তখনই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মুহূর্তের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয় এবং পারেদেস সরাসরি গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ঘুষি বসিয়ে দেন! সতীর্থকে বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে স্প্যানিশ তারকা গাভি দৌড়ে এগিয়ে এলে উত্তাপ আরও বাড়ে। সেখানে যোগ দেন আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদাও। আলমাদা গাভিকে জোরালো ধাক্কা দিলে পারেদেস সরাসরি গাভির মুখে উপর্যুপরি আঘাত করেন, যার ফলে গাভি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্কালোনির হস্তক্ষেপ ও লাল কার্ড
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে তড়িঘড়ি করে মাঠে ছুটে আসেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পারেদেসকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যান এবং শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করে প্রধান রেফারি অনতিবিলম্বে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের তীব্র নিন্দা ও তোপ
ম্যাচ শেষের এই সহিংস ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা দল। আইটিভিতে ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল এটিকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হতাশাজনক আচরণ” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে বিবিসির বিশ্লেষক অ্যালান শিয়ারার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হারে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ফুটবল মাঠে মুখে ঘুষি মারার কোনো স্থান নেই। হার মেনে নেওয়ারও একটা ন্যূনতম শালীনতা থাকা উচিত।”

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ‘দ্য মিরর’-কে বলেন, “পুরো আর্জেন্টিনার দলের মধ্যে কেবল লিওনেল মেসিই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্পেনের প্রতিটি ফুটবলারের কাছে গিয়ে হাত মিলিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আর বাকিদের আচরণ ছিল একেবারেই জঘন্য।”

বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেছে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে পারেদেস ও আলমাদার এই সহিংস আচরণ দীর্ঘকাল দলটির ওপর কলঙ্ক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।