২০ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণ ইরানের বেসামরিক অঞ্চলে কেন হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ ইরানের বেসামরিক অঞ্চলে কেন হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত করে ইরানের দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজগান প্রদেশ ও বন্দর আব্বাস শহরসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক অঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে মূল ভূখণ্ড। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বন্দর আব্বাসের কাহুরেস্তান সেতু, একটি রেলওয়ে স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যুতের টাওয়ার, পানির স্থাপনা ও খাদ্যের গুদামেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।

‘জ্বালানি স্থাপনা সবার শেষে’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানের জ্বালানি খাতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, তিনি জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে “সবার শেষের জন্য বাঁচিয়ে রাখবেন।” ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরপরই দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে এই হামলার তীব্রতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ইরান বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে। এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। অন্যদিকে, ওমান একটি নতুন নৌ চলাচল করিডরের কথা ঘোষণা করলে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পাল্টা পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি তেহরানকে নতুন শর্তে কূটনৈতিক টেবিলে বাধ্য করতে চাইছে। তবে ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন ম্যাবনের মতো বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বেসামরিক মানুষের ওপর এমন চাপ বৃদ্ধি তাদের সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর বদলে ওয়াশিংটন-বিরোধী অবস্থানকেই আরও শক্ত করবে।

অস্ত্রবিরতির সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের এই প্রত্যক্ষ সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ধ্বংসাত্মক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।