দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও প্রায়োগিক গবেষণাকে উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এ বছর চূড়ান্তভাবে ৫টি ক্ষুদ্র গবেষণা নির্বাচিত হবে এবং প্রতিটি গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ ২,০০,০০০/- (দুই লাখ) টাকা পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
নেপ জানিয়েছে, এ বছর পরীক্ষামূলক গবেষণা (Experimental Research)-কে অধিকতর উৎসাহ ও অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে।
যেসব বিষয়ে গবেষণা প্রস্তাব জমা দেওয়া যাবে
গবেষণা প্রস্তাবগুলো অবশ্যই নিচের ৫টি নির্ধারিত বিষয়ের যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে:
ক. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা (বাংলা ও ইংরেজি) উন্নয়নে কোনো পদ্ধতি, কৌশল, অ্যাকটিভিটি বা মডেলের কার্যকারিতা নির্ণয়।
খ. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণিতের চ্যালেঞ্জিং কোনো বিষয়বস্তু উপস্থাপনার জন্য কোনো পদ্ধতি, কৌশল, অ্যাকটিভিটি বা মডেলের কার্যকারিতা নির্ণয়।
গ. পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি)/ডিপিএড প্রশিক্ষণের তথ্যপুস্তক, ম্যানুয়াল, শিক্ষাক্রম ইত্যাদির কার্যকারিতা (Effectiveness) ও সামঞ্জস্যতা (Alignment)।
ঘ. প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই, শিক্ষক সহায়িকার কার্যকারিতা ও সামঞ্জস্যতা নির্ণয়।
ঙ. প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম সহজীকরণে বিশেষ কোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নির্ণয়।
আবেদনের যোগ্যতা ও দল গঠন
গবেষণা পরিচালনার জন্য একজন টিম লিডারের নেতৃত্বে এক বা একাধিক সহযোগী গবেষকের সমন্বয়ে একটি ‘গবেষণা দল’ গঠন করতে হবে।
কারা অংশ নিতে পারবেন: পিটিআই, ইউপিইটিসি ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এই গবেষণা দলে গবেষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আবেদন পাঠানোর শেষ সময় ও মাধ্যম
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬
হার্ড কপি পাঠানোর ঠিকানা: অনুষদ প্রধান, গবেষণা ও শিক্ষাক্রম উন্নয়ন অনুষদ, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহ।
সফট কপি পাঠানোর ই-মেইল: nape.research@gmail.com (পিডিএফ এবং ওয়ার্ড ফাইল উভয় ফরম্যাটেই পাঠাতে হবে)।
গবেষণা প্রস্তাবে যা যা থাকতে হবে
জমাকৃত গবেষণা প্রস্তাবে অবশ্যই—শিরোনাম, ভূমিকা, সমস্যা, যৌক্তিকতা, উদ্দেশ্য, গবেষণা এলাকা, গবেষণাপদ্ধতি, গবেষণার ডিজাইন, নমুনায়ন, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণপদ্ধতি, প্রত্যাশিত ফলাফল, এপিএ-৭ (APA-7) ফরম্যাট অনুসারে রেফারেন্স, সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, বাজেট বিভাজন এবং উপসংহার অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
মূল্যায়ন সূচক:
নেপ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রাপ্ত প্রস্তাবসমূহ পাঁচটি মূল সূচকের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে। সূচকগুলো হলো—বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা, গবেষণা সমস্যা ও উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা, গবেষণা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং বাজেটের যৌক্তিকতা।