আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামা মানেই ইংল্যান্ডের জন্য কেবল আরেকটি নকআউট ম্যাচ বা সাধারণ কোনো লড়াই নয়। এটি ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সোনালী সুযোগ। দীর্ঘ ৬০ বছরের সেই অধরা স্বপ্ন ছোঁয়ার কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।
প্রধান কোচ টমাস টুখেলের শিষ্যদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার মতো বেশ কিছু জোরালো সমীকরণ রয়েছে। মাঠের খেলায় এই বিষয়গুলো মিলে গেলে এবার সত্যি সত্যিই ঘুচে যেতে পারে থ্রি লায়ন্সদের দীর্ঘ অপেক্ষা।
কেন এই মহারণে আর্জেন্টিনাকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে ইংল্যান্ড? জেনে নেওয়া যাক সেই ৪টি প্রধান কারণ:
১. ভঙ্গুর আর্জেন্টাইন রক্ষণ
সেমিফাইনালে ওঠার দীর্ঘযাত্রায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইনকে মোটেও জমাট দেখায়নি। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বাধা টপকাতে আলবিসেলেস্তেদের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। এমনকি শেষ ১৬-র লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার মতো বিপর্যয়ও সইতে হয়েছিল তাদের।
নকআউটের ৩ ম্যাচে ইতোমধ্যে ৫টি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা। সেমিতে ওঠা চার দলের মধ্যে প্রতিপক্ষের শট সেভ করার হারেও সবচেয়ে পিছিয়ে (৫৭%) তারা। প্রতিপক্ষ একটু চাপ দিলেই ফাটল ধরছে আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণে, যা টুখেলের শিষ্যদের জন্য বড় একটি সুযোগ।
২. কেইন-বেলিংহাম জুটির অতিমানবীয় ছন্দ
চলতি বিশ্বকাপে ইংলিশ আক্রমণের মূল ভরসা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। টুর্নামেন্টে দুজনেই করেছেন ৬টি করে গোল। শেষ ষোলোতে মেক্সিকো এবং কোয়ার্টারে নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অনন্য এক রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন বেলিংহাম।
অন্যদিকে কেইনও আছেন চেনা খুনে মেজাজে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে কেইনই ত্রাতা হয়ে জোড়া গোল করে দলকে উদ্ধার করেছিলেন। চাপের মুখে কেইন-বেলিংহাম জুটির এই রসায়ন ও ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা যেকোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
৩. ‘বিগ চান্স’ তৈরিতে সবার চেয়ে এগিয়ে
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ দারুণ ধারাবাহিক। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক, উইং ধরে কাটব্যাক কিংবা বাতাসে ভাসানো নিখুঁত ক্রস—সব উপায়েই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে থ্রি লায়ন্সরা।
সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮টি ‘বিগ চান্স’ (গোলের বড় সুযোগ) তৈরি করেছে টুখেলের দল। আর্জেন্টিনার নড়বড়ে রক্ষণ যদি ম্যাচে কোনো ফাঁকফোকর তৈরি করে, তবে ফর্মে থাকা ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা তা কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র ভুল করবেন না।
৪. প্রথমবার সত্যিকারের অ্যাসিড টেস্টের মুখে আলবিসেলেস্তেরা
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা যাদের হারিয়ে সেমিতে এসেছে, তারা হলো কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ড। ফুটবলীয় শক্তির বিচারে এদের কেউই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের মধ্যে পড়ে না। ফলে সেমিফাইনালের মঞ্চে র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দল ইংল্যান্ডই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার প্রথম সত্যিকারের কঠিন পরীক্ষা।
ছোট দলগুলোই যদি আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণকে এতটা তটস্থ করে তুলতে পারে, তবে কেইন-বেলিংহামদের নিয়ে সাজানো শক্তিশালী ইংল্যান্ড কেন পারবে না? এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ সেমিফাইনালের রণক্ষেত্রে নামবে টমাস টুখেলের শিষ্যরা।