১৫ জুলাই, ২০২৬

স্প্যানিশ ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপে’ নীল ফরাসিরা

স্প্যানিশ ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপে’ নীল ফরাসিরা

নামে-ভারে ইউরো ও বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের গতি আর আক্রমণভাগের ধার টুর্নামেন্টজুড়ে ত্রাস ছড়িয়েছিল প্রতিপক্ষ শিবিরে। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে স্প্যানিশ কৌশলের মারপ্যাঁচে পাত্তাই পেল না দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভাষায়, স্পেনের ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’–এর চাপে পিষ্ট হয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে ফরাসিদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

ডালাসের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। নিউ জার্সির রোববারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড।

অ্যানাকোন্ডার মতো শ্বাসরুদ্ধকর ডিফেন্স
দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল সাপ অ্যানাকোন্ডা যেভাবে তার শিকারকে আষ্টেপৃষ্ঠে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে, ডালাসের মাঠে স্পেনের রক্ষণ ও মাঝমাঠের কৌশল ছিল ঠিক তেমনই। ফ্রান্সের ফুটবলারদের পায়ে বল থাকা অবস্থাতেই স্প্যানিশ মিডফিল্ড এমন এক জালের সৃষ্টি করে, যার ফলে ফরাসিরা পাস নিয়ে বক্সে ঢোকার কোনো ফাঁকাই খুঁজে পায়নি।

রদ্রি, পাউ কুবারসি ও মার্ক কুকুরেয়ারা মাঝমাঠে মাইকেল ওলিসে আর অঁরেলিয়ে চুয়ামেনিদের পাসের সমস্ত পথ সরু করে এনে বল কেড়ে নেন। ফলে পুরো ম্যাচে বলের জন্য হাঁসফাঁস করতে হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের।

১০ বছরের দীর্ঘ দর্শনের ফসল
স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের মতে, স্পেনের এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ১০ বছর আগেই উনাই সিমন, রদ্রি, ওলমোদের নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ দল থেকে যে দর্শনের বীজ বুনেছিলেন, আজ তারই ফসল এই অনবদ্য দলীয় পারফরম্যান্স।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ বস গর্ব করে বলেন,

"প্রায় চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট দর্শন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলাম এবং তাতে অবিচল ছিলাম। আজ আমাদের ছেলেরা বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে প্রমাণ করেছে যে তারা অজেয়।"

কৌশলগত ভুলে পুড়লেন এমবাপ্পে
পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করা এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে হারের গ্লানি মেনে নিয়ে বলেন, "কৌশলগত কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স—কোনো দিক থেকেই আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল শুরু থেকে চাপ সৃষ্টি করা, কিন্তু মাঝমাঠে আমরা বারবার স্পেনের দুজনের বিপরীতে তিনজন খেলোয়াড়ের ফাঁদে পড়েছি। এমন ম্যাচে যা করা উচিত, তা করতে না পারলে জেতা অসম্ভব।"

ম্যাচের হাইলাইটস তথ্য বিবরণী
ম্যাচের ফলাফল স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স
স্পেনের ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রদ্রি ও পাউ কুবারসি
ফ্রান্সের গোলস্কোরার এমবাপ্পে ও দেম্বেলে (পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়)
ফাইনালের ভেন্যু নিউ জার্সি (আগামী রোববার)

লা রোহাদের এই নিখুঁত ও পরিকল্পিত ফুটবলের কোনো জবাব ছিল না ফরাসি শিবিরে। ফুটবল একাডেমিগুলোর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকা এই ম্যাচ জিতে এখন শিরোপার সুবাস পাচ্ছে স্পেন। এখন দেখার বিষয়, নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের এই ‘অ্যানাকোন্ডা গ্রিপ’ ভাঙার সাধ্য কার হয়—আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ডের?