মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনাল দ্বৈরথ নিয়ে মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে তুমুল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ার পর এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছে ইংল্যান্ডকে। হ্যারি কেইনদের হাতেই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি দেখতে চান ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নিয়েছে। নিজেদের দেশ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কার হাতে ট্রফি দেখতে চায়—এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি পরোক্ষভাবে ইংল্যান্ডের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানান।
ঐতিহাসিক ২৫০ বছরে ইংলিশদের জয় চান ট্রাম্পের প্রতিনিধি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জুলিয়ানি বলেন,
"যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের স্বাধীনতার ২৫০তম জন্মবার্ষিকীতে শিরোপা জিততে না-ই পারে, তবে এই ঐতিহাসিক বর্ষপূর্তির উদযাপনের মধ্যে ইংলিশদের আমেরিকায় এসে ট্রফি জিতে নেওয়াটা হবে এক দারুণ গল্প।"
ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপাখরা নিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ড বর্তমানে টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা এবং তারা এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।
কেইনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ডোনাল্ড ট্রাম্প
সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানান, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিয়মিত ইংল্যান্ড দলের খোঁজখবর রাখছেন। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে একজন ‘দুর্দান্ত খেলোয়াড়’ ও ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের ফুটবলের প্রতি এই আগ্রহের পেছনে তাঁর ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন জুলিয়ানি। তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনির সঙ্গে গলফ খেলার সময়ও ট্রাম্পের ফুটবল প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল।
জুলিয়ানির চোখে ইংল্যান্ডের শক্তির জায়গা
ইংল্যান্ড দল সম্পর্কে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরে অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের মতো অসাধারণ অ্যাথলেটরা এই দলের মূল শক্তি। ইংল্যান্ড অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল এবং তারা যদি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে তার পেছনে প্রধান ভূমিকা থাকবে হ্যারি কেইনের। কোচকে শুধু খেলোয়াড়দের মনে এই বিশ্বাস গেঁথে দিতে হবে যে, শিরোপা জেতার সব সামর্থ্য এই দলের রয়েছে।
সেমিফাইনাল সমীকরণ: বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্স এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। একদিকে মাঠের রেফারিং নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য ইংল্যান্ড প্রীতি—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের এই সেমিফাইনাল ম্যাচটি কেবল ফুটবল ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নেই, রূপ নিয়েছে এক বৈশ্বিক বিনোদনে।