১৪ জুলাই, ২০২৬

রেফারির দিকেই যত চোখ, সেমিফাইনালে বাঁশি বাজাবেন ইসমায়েল এলফাত

রেফারির দিকেই যত চোখ, সেমিফাইনালে বাঁশি বাজাবেন ইসমায়েল এলফাত

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন মাঠের খেলার পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্ক। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসর সরাসরি অভিযোগ তুলেছিল—মেসি ও আর্জেন্টিনাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন রেফারি। কোয়ার্টার ফাইনালে একই ক্ষোভ ঝরেছে সুইজারল্যান্ডের কণ্ঠেও।

রেফারিং নিয়ে এমন চরম উত্তেজনার আবহেই ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সেমিফাইনালের ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম জানার জন্য। অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের জন্য প্রধান রেফারির নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের বাঁশি থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমায়েল এলফাত-এর হাতে।

আটলান্টায় মার্কিন ত্রয়ী এবং রেফারিং প্যানেল
বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেন্‌জ স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিট কাটার এই মহালড়াইয়ে এলফাতকে সহযোগিতা করবেন তাঁর দুই স্বদেশি সহকারী রেফারি:

সহকারী রেফারি: কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস (যুক্তরাষ্ট্র)।

চতুর্থ রেফারি: মাউরিজিও মারিয়ানি (ইতালি)।

রিজার্ভ সহকারী রেফারি: দানিয়েলে বিনদোনি (ইতালি)।

চলতি বিশ্বকাপে ৪৪ বছর বয়সী এলফাত ইতিমধ্যে তিনটি ম্যাচ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান ও উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচের পর শেষ ষোলোর ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি, যে ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে।

মরক্কোর স্বপ্ন থেকে আমেরিকার সেরা রেফারি
ইসমায়েল এলফাতের জীবনের গল্পটি যেকোনো হলিউড সিনেমাকেও হার মানায়। মরক্কোয় জন্ম নেওয়া এলফাত ২০০১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারিতে ভাগ্য বদলে পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে টেক্সাসের বাসিন্দা এলফাত ২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ম্যাচ পরিচালনা করছেন।

২০১৬ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় নাম লেখানোর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের স্বাদ পান তিনি। সেবার ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে ডাগআউটের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন: দুইবার এমএলএস বর্ষসেরা রেফারির খেতাব জেতা এলফাত ২০২২ সালের এমএলএস কাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ কনক্যাক্যাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনাল পরিচালনা করে উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপের পাশাপাশি মাঠের রেফারিদের ওপরও যখন সমালোচনার পাহাড়সম চাপ, তখন ইসমায়েল এলফাতের মতো একজন অভিজ্ঞ ও ঠান্ডা মাথার রেফারির ওপরই ভরসা রাখল ফিফা। এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠের শৃঙ্খলা ও রেফারিংয়ের মান বজায় রেখে এলফাত কতটা সফলভাবে ম্যাচটি শেষ করতে পারেন।