১৩ জুলাই, ২০২৬

গ্রেপ্তার রামমূর্তি নির্মাতা হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি

গ্রেপ্তার রামমূর্তি নির্মাতা হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার বিশালাকার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুদ্রা পাচার ও মানি লন্ডারিং আইনের একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে, রোববার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গাইবান্ধার নিজ এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে। পরে সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সোমবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তায় ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর গায়ে লাল টি-শার্ট, পরনে লুঙ্গি, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট পরানো ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হারিদাসের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে। তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে। এই অর্থের উৎস এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা উদঘাটনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে বলেন, "আমার মক্কেলের কোনো অপরাধ নেই। তিনি কেবল একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণ করেছেন, যেখানে হাজারো মানুষ প্রার্থনা করতে যান। এটি ধর্মীয় কাজে বাধা সৃষ্টি ও সামাজিক সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্যে করা একটি সম্পূর্ণ ভুয়া মামলা।"

পাল্টা বক্তব্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির হোসেন একে 'মিথ্যা ও মনগড়া দাবি' বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ধর্মের লেবাস ধরে এই আসামি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন। এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র বা বিদেশি সংস্থা জড়িত আছে কি না, তা বের করা প্রয়োজন।"

শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হরিদাস চন্দ্র নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, "আমি আগে কৃষিকাজ করতাম, এখন মন্দির দেখাশোনা করি। ভক্তরা যদি ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য আমাকে টাকা দান করেন, তবে সেটা কি আমার অপরাধ? মন্দির বানানো কি পাপ?"

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে হরিদাস চন্দ্রের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।