১২ জুলাই, ২০২৬

দুদকের মামলায় বাখরাবাদের সাবেক কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড

দুদকের মামলায় বাখরাবাদের সাবেক কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাঁকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদ সাইফউল্লাহ টিপু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে। তিনি বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড কুমিল্লার গৌরীপুর শাখার সাবেক বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আদালতের রায় ও সাজার বিবরণ
ফেনী সদর থানায় ২০১১ সালে দায়ের করা এই দুর্নীতি মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুটি পৃথক ধারায় এই সাজা প্রদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তথ্য গোপনের অপরাধে তাঁকে ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অপরাধে ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি ধারার সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

প্রকৌশলীর তদন্তে বেরিয়ে আসে শুভঙ্করের ফাঁকি
মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, খালেদ সাইফউল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লার গৌরীপুর কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকা মূল্যে ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান।

তবে দুদকের নিয়োগকৃত প্রকৌশলীর কারিগরি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ছিল ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা। অর্থাৎ এখানে বড় অঙ্কের ব্যয়ের তথ্য গোপন করা হয়। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে একটি মার্কেট নির্মাণের ব্যয় এবং আয়ের উৎসের মধ্যেও বড় ধরনের অসঙ্গতি খুঁজে পায় দুদক।

চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, তিনি সুকৌশলে তথ্য গোপন করে মোট ৩৮ লাখ ৪৭(৪৮) হাজার ৫৮৬ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

আইনি পক্ষ
মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন এবং তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. ইদ্রিছ। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এই রায় দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা।