১২ জুলাই, ২০২৬

ধুনটে যমুনার ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

ধুনটে যমুনার ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর প্রবল স্রোতের তোড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার চেষ্টা সত্ত্বেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না নদীর এই আগ্রাসী রূপ।

আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে নদীতীরবর্তী লোকালয় ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাসিন্দাদের মাঝে চরম ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যমুনা পাড়ের মানুষ আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ধস নেমে পুরো এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

অবৈধ বালু উত্তোলন ও স্থায়ী সমাধানের অভাব
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরেও শহরাবাড়ি গ্রামে যমুনার আকস্মিক ভাঙনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ ভূমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতের ঘূর্ণাবর্তে এই বিপর্যয় ঘটেছিল। পরবর্তীতে জিও ব্যাগ ফেলে সামাল দেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনেনি।

চলতি বর্ষা মৌসুমে গত ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। সম্প্রতি যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়ে ঘূর্ণাবর্তের মাধ্যমে সরাসরি নদীপাড়ে আঘাত হানছে পানি। এতে আগে থেকে সংরক্ষিত জিও ব্যাগের তীরও ধসে পড়ছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা। প্রতিবছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

পাউবোর আশ্বাস
ভাঙনের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ তদারকি করছেন।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, “ভাঙন শুরুর পরপরই আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি। ভাঙনরোধে বালুভর্তি বিশেষ টিউবগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।” তবে পাউবোর এই চিরাচরিত আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা অসহায় মানুষগুলো।