রান্নাঘরের প্রাত্যহিক ব্যস্ততা যে এভাবে এক নিমিষেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে, তা কে জানত! ঘরের আলমারিতে ওত পেতে থাকা বিষাক্ত সাপের ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন শাহানাজ আক্তার (২৫) নামের এক তরুণী গৃহবধূ। দুই সন্তানকে এতিম করে তাঁর এই আকস্মিক বিদায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের চাপরাশি বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পরে বিকেলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শাহানাজ ওই গ্রামের জায়েদ হোসেনের স্ত্রী।
পেঁয়াজ আনতে গিয়েই বিপত্তি
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন শাহানাজ। দুপুর ১২টার দিকে তরকারিতে দেওয়ার জন্য ঘরের আলমারি খুলে পেঁয়াজ নিতে যান তিনি। কিন্তু তিনি টের পাননি, আলমারির অন্ধকার কোণে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিল এক বিষাক্ত সাপ। পেঁয়াজ নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই সাপটি তাঁর হাতে ছোবল মারে। শাহানাজের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।
চিকিৎসায় অবহেলা ও ওঝার পেছনে সময় নষ্ট
অভিযোগ উঠেছে, সাপে কাটার পরপরই শাহানাজকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে ওঝা ও কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁকের চেষ্টা করে পরিবার। গ্রামীণ কুসংস্কারের পেছনে মূল্যবান কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট করার কারণে বিষ দ্রুত তাঁর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, "রোগীকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিষ ততক্ষণে তাঁর পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।"
???? মুক্ত প্রভাত সচেতনতা বার্তা: সাপে কাটলে কী করবেন, কী করবেন না?
বর্ষার এই সময়ে গ্রামীণ ও শহরতলির বাড়িঘরে সাপের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। একটু সচেতনতাই পারে এমন অবুজ মৃত্যু ঠেকাতে:
ওঝার কাছে যাবেন না: সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার পেছনে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করবেন না। সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভ্যানম) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
আক্রান্ত স্থান বাঁধবেন না বা কাটবেন না: কামড়ানোর জায়গায় ব্লেড দিয়ে কাটা, চুষে বিষ বের করার চেষ্টা করা কিংবা শক্ত করে গিঁট দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। এতে ইনফেকশন ও গ্যাংগ্রিন হতে পারে।
হাত দেওয়ার আগে সাবধান: আলমারি, চালের ড্রাম, খাটের নিচে বা লাকড়ির স্তূপের মতো অন্ধকার জায়গায় হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই আলো জ্বেলে বা লাঠি দিয়ে পরীক্ষা করে নিন।