১১ জুলাই, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মী সভা

চুয়াডাঙ্গায় মসজিদ ভাড়া নিয়ে জামায়াতের নারী কর্মী সভা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পরে উত্তেজিত জনতা ও বিএনপি কর্মীরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার দামুড়হুদা মডেল মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার পর থেকে ইজিবাইক ও মাইক্রোবাসযোগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩ থেকে ৪ শ নারী কর্মী দামুড়হুদা মডেল মসজিদে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুরে স্থানীয় মুসল্লিরা জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। সরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের এমন কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মসজিদের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ভেতরে আটকে পড়া নারী কর্মীদের নিরাপদে বের করে দেয়।

মসজিদ ভাড়া দেওয়ার নেপথ্যে:

মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. শাহজাহান জানান, স্থানীয় জামায়াতের নারী কর্মীরা নারী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে একদিনের জন্য ৩ হাজার টাকায় মসজিদটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানাননি।

এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. আবেদ উদ্ দৌলা রিটন শনিবার দিনব্যাপী সেখানে মহিলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য:

দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হাসান তনু বলেন, "একটি ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। এই খবর পেয়ে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে ধাওয়া দেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং পরে জামায়াত কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।"

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, "এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"

প্রশাসনের পদক্ষেপ:

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, "আমি যেহেতু মডেল মসজিদের সভাপতি, তাই এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এত বড় আয়োজন বা নারীদের সমাগমের বিষয়ে আমাকে কেন জানানো হলো না কিংবা অনুমতি নেওয়া হলো না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে মসজিদের কেয়ারটেকারকে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।"