১১ জুলাই, ২০২৬

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে নোয়াখালীর দেড় লাখ মানুষ

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে নোয়াখালীর দেড় লাখ মানুষ

টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে নোয়াখালীতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর তাতেই নোয়াখালী পৌরসভার জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম বন্যা ও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন পৌরসভার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন আগাম জলাবদ্ধতার চিত্র স্থানীয়দের মনে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সড়কে গোড়ালি সমান পানি, থমকে গেছে জনজীবন:

সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ, পুলিশ লাইন্স রোড, হাউজিং রোড, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ফকিরপুর রোড, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পায়ের গোড়ালি সমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নেপথ্যে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সংস্কারের অভাব:

স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের গাফিলতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নকে দায়ী করছেন। সালাউদ্দিন পিয়াস নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মূল সড়কের তুলনায় উঁচু ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাব এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই ভোগান্তি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশন হয় না। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান খালগুলো খনন ও পরিষ্কার না করায় বৃষ্টির পানি আটকে থাকছে।

কাটেনি বন্যার ক্ষত, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি:

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদর হাসপাতাল সড়ক, পুরাতন জেলখানা সড়কসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। তার ওপর আবার বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলায় রাস্তাঘাটের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। কাদা-পানিতে একাকার সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪-২৫ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি নোয়াখালীবাসী। এর মধ্যেই নতুন করে এই আগাম জলাবদ্ধতা তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পৌরবাসীর দাবি, বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, শহরের খাল পুনঃখনন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হোক।

যা বলছে প্রশাসন:

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ নোয়াখালীর উপপরিচালক ডা. মো. শেখ ছাদেক বলেন, "নোয়াখালী পৌরসভা একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিম্নাঞ্চলভিত্তিক এলাকা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কিছু স্থানে পানি জমে। জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮টি খাল ও ৭টি ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে অনেক স্থানে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়।" পৌরসভার সক্ষমতা অনুযায়ী এই সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।