বগুড়ার ধুনটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও মামলার আলামত নষ্টের ঘটনায় আদালতে বিচারাধীন একটি মামলা নিয়ে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। লতিফুল কবির হিমেল নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা, যা পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত লতিফুল কবির হিমেল উপজেলার চালিতাডাঙ্গা মহিলা কলেজের শিক্ষক এবং রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার প্রেক্ষাপট:
অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ধুনট পৌর এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে মুরাদুজ্জামান মুকুল নামের এক প্রভাষক। এ ঘটনায় মামলা হলে তদন্তের দায়িত্ব পান ধুনট থানার তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা। তদন্তকালে আসামির কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিওর প্রমাণ মেলে। তবে অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সেই ভিডিওসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করে ফেলেন।
বিষয়টি টের পেয়ে মামলার বাদী পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মূল আসামি মুরাদুজ্জামানের পাশাপাশি আলামত নষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধেও আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।
ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য ও জিডি:
আদালতে মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায়, গত ৮ জুলাই শিক্ষক লতিফুল কবির হিমেল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এই সংবেদনশীল মামলাটি নিয়ে বিরূপ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন স্কুলছাত্রীর বাবা। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১০ জুলাই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "লতিফুল কবির হিমেলের সঙ্গে আমাদের কোনো পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। অথচ ফেসবুকে আমাকে ছোট ভাই সম্বোধন করে পুরো মামলা নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
অভিযুক্ত ও পুলিশের বক্তব্য:
অবশ্য ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক লতিফুল কবির হিমেল বলেন, "থানায় অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আর বাদী আব্দুল লতিফ আমার ভাই নন।"
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্কুলছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।