১১ জুলাই, ২০২৬

ট্রাক উল্টে সড়কে ডিম, কুড়াতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৫

ট্রাক উল্টে সড়কে ডিম, কুড়াতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৫

সড়কে ছড়িয়ে পড়া ডিম কুড়ানোর আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিলো বিভীষিকায়। ডিম কুড়াতে গিয়ে দ্রুতগতির একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে অন্তত ছয়টি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যেভাবে ঘটল এই ট্র্যাজেডি:

স্থানীয় ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি ডিম বোঝাই ট্রাক সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আচমকা সেটির চাকা ফেটে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে পড়ে এবং শত শত ডিম রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ডিম কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে নড়াইলগামী দ্রুতগতির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ব্যান্ডের একটি যাত্রীবাহী বাস ডিম কুড়াতে থাকা সাধারণ মানুষকে পিষে দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—জয়নাল (২৭), আরিফ (২৭) ও ওবায়দুর (৪০)। নিহত অপর দুজনের মধ্যে একজন উল্টে যাওয়া ট্রাকের চালক। তবে তাঁর নাম জানা যায়নি। ট্রাকচালক ছাড়া হতাহতদের প্রায় সবাই সোয়াদী ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা।

হাসপাতালের চিত্র:

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, দুর্ঘটনার পর ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি আহতদের ঢাকা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উত্তেজিত জনতা ও মহাসড়ক অবরোধ:

প্রত্যক্ষদর্শী শুভ চক্রবর্তী জানান, বাসটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে ডিম কুড়াতে থাকা মানুষদের ওপর তুলে দেয় এবং চালক বাস নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সেখানে থাকা অন্তত ৬টি বাস ও ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।"