১০ জুলাই, ২০২৬

জন্মভূমির বিরুদ্ধে হালান্ডের মহালড়াই: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এক আবেগঘন ম্যাচ

জন্মভূমির বিরুদ্ধে হালান্ডের মহালড়াই: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এক আবেগঘন ম্যাচ

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অনন্য রোমাঞ্চকর লড়াই। যেখানে মাঠের মাঠের খেলায় মুখোমুখি হবে নরওয়ে এবং ইংল্যান্ড, কিন্তু মাঠের বাইরে এর চেয়েও বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালান্ডের ব্যক্তিগত আবেগ। শেষ আটে নিজের জন্মভূমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই মাঠে নামতে যাচ্ছে এই গোলমেশিন। নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ এই ম্যাচটিকে ঘিরে দারুণ এক অনুভূতির কথা জানিয়েছেন হালান্ড নিজেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বলেন,

"এটি অবশ্যই খুব বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ইংল্যান্ডেই আমার জন্ম। সেখানে আমার অনেক সতীর্থও আছে। তাই ম্যাচটি ভিন্ন রকমের অনুভূতি দেবে। এটি উপভোগ্য হবে।"

আর্লিং হালান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডেই, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড প্রখ্যাত ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। পরবর্তী সময়ে সেই ইংল্যান্ডেরই প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত চার মৌসুমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন হালান্ড। অথচ আজ তাকেই লড়তে হবে চেনা সতীর্থ আর চেনা মাটির বিপক্ষে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে এমনিতেই ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। আর সেই রূপকথার প্রধান কারিগর হালান্ড। নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই চার ম্যাচে সাতটি গোল করে দলকে টেনে তুলেছেন শেষ আটে। নকআউট পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর নায়কও ছিলেন তিনি। নরওয়ের এই অবিশ্বাস্য যাত্রা নিয়ে হালান্ড বলেন,

"সত্যি বলতে আমি এমনটা আশা করিনি। নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আমার কাছেও বিস্ময়কর। ব্রাজিলকে হারিয়ে এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।"

এদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও গত ৬০ বছর ধরে বড় কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। সেই শিরোপা খরা আর মনস্তাত্ত্বিক চাপটা প্রতিপক্ষের কাঁধেই ঠেলে দিতে চান নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। হালান্ডের স্পষ্ট বার্তা,

"ইংল্যান্ড অবশ্যই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তাই আমি বলব, যতটা সম্ভব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই দিন।"

জন্মভূমির স্মৃতি আর বর্তমান সতীর্থদের বিপক্ষে হালান্ডের এই আবেগ ও কৌশলের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।