৯ জুলাই, ২০২৬

ক্লাবে অনীহা, বিশ্বকাপে ‘রাজা’: এমবাপ্পের ভিন্ন রূপের রহস্য কোথায়?

ক্লাবে অনীহা, বিশ্বকাপে ‘রাজা’: এমবাপ্পের ভিন্ন রূপের রহস্য কোথায়?

তিনটি বিশ্বকাপ, দুটি ফাইনাল, একটি শিরোপা আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৯ গোল! বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পের এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তাকে ‘বিশ্বকাপের খেলোয়াড়’ বলা হয়। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রেখে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড এখন লিওনেল মেসির ২১ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছে দাঁড়িয়ে।

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে এমবাপ্পে যতটা উজ্জ্বল, ক্লাব ফুটবলে—বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে—ঠিক ততটাই সমালোচনার মুখে। প্রশ্ন উঠেছে, ফ্রান্সের হয়ে মাঠ কাঁপানো এই ‘রাজা’ রিয়ালে কেন নিজের চেনা ছন্দে নেই?

জাতীয় দলে স্বাধীনতা ও নেতৃত্ব

ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে শুধু দলের অধিনায়কই নন, পুরো আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি। দলের কৌশল ও পরিকল্পনা সাজানো হয় তাকে কেন্দ্র করেই। ফলে জাতীয় দলে খেলার সময় তিনি প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য পান, যা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও ভয়ংকর করে তোলে।

রিয়াল মাদ্রিদে প্রত্যাশার পাহাড় ও সমালোচনা

২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিশাল প্রত্যাশার চাপ বহন করছেন এমবাপ্পে। ক্লাবের ট্রফিহীন মৌসুম এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পুরো দায় এসে পড়েছে তার ঘাড়ে। এমনকি রিয়ালের সমর্থকদের একাংশ তাকে দল থেকে বিদায় করতে অনলাইন পিটিশনেও স্বাক্ষর করেছেন।

স্পেনভিত্তিক ক্রীড়া সাংবাদিক ফার্নান্দো কালাসের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ মানসিকতা। তিনি বলেন, “পরিসংখ্যানের দিক থেকে রিয়ালে এমবাপ্পের মৌসুম খারাপ না হলেও, ফ্রান্সের হয়ে তিনি মাঠে যে নিবেদন দেখান, ক্লাবের জার্সিতে তা অনুপস্থিত। অনেক সমর্থকই মনে করেন, তিনি ক্লাবের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেন।”

কী বলছে পরিসংখ্যান?

সমালোচকরা যাই বলুন না কেন, পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। গোল, অ্যাসিস্ট, গতি, সফল ড্রিবল কিংবা প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ—সব সূচকেই ক্লাব ও জাতীয় দলে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স প্রায় কাছাকাছি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটা পারফরম্যান্সে নয়, বরং পরিবেশ ও দায়িত্ববোধে। ফ্রান্সের জার্সিতে তিনি যে মানসিক স্বস্তি ও একক আধিপত্য পান, রিয়ালের তারকাখচিত স্কোয়াডে তা কিছুটা সংকুচিত। আর এই মানসিক পার্থক্যের কারণেই একই খেলোয়াড়কে দুই জার্সিতে দুই ভিন্ন রূপে দেখছে ফুটবল বিশ্ব।