টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বসতঘর, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ও রান্নঘরে পানি উঠে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি নিঝুম দ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরের চরাঞ্চলগুলোও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলো জানান, একদিকে জোয়ার ও অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। কৃষকরাও আমন চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১টি টিম মাঠে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৫০০-৬০০ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।