কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও দেখা দিল প্রকৃতির নির্মম থাবা। এবার ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড়ের খাদে নির্মিত একটি দেয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে একটি মহিলা হেফজখানার তিন শিশু শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় দেয়াল ও মাটির স্তূপ থেকে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল পৌনে চারটার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প) এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের সবার বয়স ৯ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই উখিয়ার ক্যাম্প এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। ঘটনার সময় ওই মহিলা হেফজখানাটিতে ৪০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু পড়াশোনা করছিল। বিকেল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ করেই মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ের পাশে নির্মিত একটি বিশাল দেয়াল ও মাটির স্তূপ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাদ্রাসাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ভেতরে থাকা শিশুদের চিৎকার ও হইচই শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গা ও স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধার কাজে হাত লাগান। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
মৃত্যু আরও বাড়ার শঙ্কা
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৭ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেয়াল ধসে তিন শিশু মারা যাওয়ার পাশাপাশি আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার রাতেই উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আজ আবার এই নতুন বিপর্যয় নেমে এল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল মাটি এবং দেয়াল সরিয়ে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।