প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অবশেষে বড় ধরণের অচলাবস্থার মুখে পড়ল চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি এবং রেকর্ড ভাঙা ভারী বর্ষণে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় আজ বুধবারের (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে কেবল সাতকানিয়ার দুটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র নিয়ে সংশয় ও পরীক্ষা বাতিলের কথা ভাবা হলেও, পুরো চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি ও পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রাম বোর্ডের আজকের সব পরীক্ষা একযোগে স্থগিত করার এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা প্রশাসন।
অবরুদ্ধ চট্টগ্রাম: সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত
আজ বুধবার (৮ জুলাই) সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসির আবশ্যিক বিষয় ইংরেজি ২য় পত্র এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম ও সমমানের বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা অতি ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের অধিকাংশ সড়ক, নিচু এলাকা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হয়, অনেক জায়গায় যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এবং মাঠপর্যায়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি আমল নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আজ সকালের শিফটের সব পরীক্ষা স্থগিতের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়। স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে চলছে।
১৬ জেলায় বন্যার থাবা, নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতের ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত গভীর মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের পাঁচ বিভাগের অন্তত ১৬টি জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এমন এক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছিল এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে সারাদেশে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনেই রয়েছেন লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী।
মুক্ত প্রভাত মন্তব্য: সাতকানিয়ার দুটি কেন্দ্র থেকে শুরু হওয়া শঙ্কা যে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে—তা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই প্রমাণ করে। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয়। তবে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে যে সেশনজট ও মানসিক অবসাদের জন্ম নেয়, তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। শিক্ষা বোর্ডের উচিত বন্যা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা এবং পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই স্থগিত হওয়া ইংরেজি ২য় পত্র পরীক্ষার একটি সুবিধাজনক ও যৌক্তিক নতুন তারিখ ঘোষণা করা, যাতে পরীক্ষার্থীরা মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়।