৭ জুলাই, ২০২৬

রাঙামাটিতে ১৯০ মিলিমিটারের অতিভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র চালু

রাঙামাটিতে ১৯০ মিলিমিটারের অতিভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র চালু

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে কাঁপছে পাহাড়। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলার মতো পাহাড় ঘেরা রাঙামাটিতেও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অতিভারী বর্ষণ। টানা তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে পুরো জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পাহাড়ধসের আশঙ্কা। পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বাস করা হাজারো মানুষকে सुरक्षित স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শুরু হয়েছে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে তরলীকরণের কাজ।

এদিকে, দুর্যোগের প্রথম দিনেই পাহাড় থেকে পড়া গাছের গুঁড়ির আঘাতে বাঘাইছড়িতে লক্ষ্মীবিলাস চাকমা (৭০) নামে এক প্রবীণ ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

৩ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি, পানির নিচে স্বাস্থ্যকেন্দ্র
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে, যা মৌসুমের অন্যতম অতিভারী বর্ষণ।

এই প্রলয়ঙ্করী বৃষ্টির তোড়ে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। এছাড়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে মাটি সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।

ঝুুঁকিতে ২৯ এলাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে ২ শতাধিক মানুষ
জেলা ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, রাঙামাটি শহরের রূপনগর, শিমুলতলী, মুসলিম পাড়াসহ পৌর এলাকায় ২৯টি এবং ১০টি উপজেলা মিলিয়ে মোট ১০০টিরও বেশি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো মানুষের যেন প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য রাঙামাটি শহরের ১১টিসহ জেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের মোট ৭০ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ৯০ জন এবং কাউখালীতে ৬০ জনসহ দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়াদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বেলা খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।

"সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি অনেক বাড়ছে। সকালে দেখি আমার ঘরের কয়েকটা খুঁটি মাটি থেকে সরে গেছে। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারত, তাই নাতিকে নিয়ে লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছি।"

— নূরজাহান বেগম, পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দা।

মাঠে প্রশাসন, চলছে মাইকিং
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী শিমুলতলী, রূপনগর ও লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল এলাকা এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও পুলিশের সহায়তায় মাইকিং জোরদার করা হয়েছে। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নিশাত শারমিন জানান, একটি মানুষেরও যেন প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ২৪ ঘণ্টা মাঠে কাজ করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২-৩ দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ের ঢালে থাকা পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক হলেও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।