৭ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশীদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশীদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

অবশেষে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের ফলশ্রুতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুখবর জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘বিনা খরচে’ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে সরকার।

রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করবে বাংলাদেশ, থাকছে না পুরোনো সিন্ডিকেট
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনছে অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত নতুন সরকার। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার মালয়েশিয়ার দেওয়া তালিকার ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ নিজেই নিজস্ব রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে।

পূর্বে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির ‘সিন্ডিকেট’ এবং আকাশচুম্বী অভিবাসন ব্যয়ের কারণে বাজারটি বারবার বন্ধ হয়েছিল। এবার সেই দুর্নীতি রুখতে সব এজেন্সির সঙ্গে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। তবে জনশক্তি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এজেন্সি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি যদি পুরোপুরি স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না রাখা যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের চড়াই-উতরাই
বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্যতম শীর্ষ এই গন্তব্যটি গত দুই দশকে বহুবার বন্ধ ও চালু হয়েছে:

২০০৮: অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম বাজার বন্ধ করে মালয়েশিয়া।

২০১৬: দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয়।

২০১৮: আবারও সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত হয়।

২০২২ (আগস্ট): পুনরায় কর্মী যাওয়া শুরু হয়।

২০২৪ (১ জুন): ডেডলাইনের জটিলতায় হাজার হাজার কর্মী আটকে পড়ে এবং বাজারটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল কুয়ালালামপুর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমঝোতা হওয়ায় সব আইনি জটিলতা কেটে যায় এবং বাজারটি পুনরায় সচলের পথ সুগম হয়।

আটকে পড়া ৭ হাজার কর্মীর দায়িত্ব ‘বোয়েসেল’-এর
২০২৪ সালের জুন মাসের ডেডলাইনের কারণে মালয়েশিয়া যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে যে ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এই কর্মীদের নিরাপদে মালয়েশিয়া পাঠানোর পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা ‘বোয়েসেল’ (BOESL)-কে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩ হাজার কর্মী সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বাকি থাকা কর্মীদের বিষয়েও দ্রুত পৃথক আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে সরকার।

"আমরা শুধু মালয়েশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছি না; অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য, জাপান এবং মরিশাসের শ্রমবাজার থেকেও বড় ধরনের সুখবর আসছে। রেমিট্যান্স প্রবাহকে গতিশীল করতে এবং অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকার নিরলসভাবে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান করে যাচ্ছে।"

— আরিফুল হক চৌধুরী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী।

নতুন আশার আলো
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সচল হওয়ার খবরে সারা দেশের সাধারণ কর্মী ও তাদের পরিবারগুলোর মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—ঘোষণা অনুযায়ী যেন কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা বা দালালের খপ্পর ছাড়াই সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণের দেখা পায়।