৭ জুলাই, ২০২৬

দেশে জেট ফুয়েলের দাম কমলো আরও ১৯ টাকা ২২ পয়সা

দেশে জেট ফুয়েলের দাম কমলো আরও ১৯ টাকা ২২ পয়সা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের বিমান খাত। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল ‘জেট ফুয়েল’-এর দাম এবার প্রতি লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আজ দিবাগত রাত ১২টা (৮ জুলাই) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে। এ নিয়ে টানা তিন মাস দেশের বাজারে জেট ফুয়েলের দাম কমলো।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নতুন দর
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন সমন্বিত মূল্যের পর জেট ফুয়েলের দামের চিত্রটি নিচে দেওয়া হলো:

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট: দেশের ভেতরের রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এখন প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা। এর আগে এই দাম ছিল ১৫০ টাকা ২১ পয়সা।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট: আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৯৮০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ০.৮৫৫৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতি: তেলের বাজারে অস্থিরতার খতিয়ান
চলতি বছরের মে মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করায় দেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর আগে গত মাসেও (জুন) জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছিল ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা। তার আগের মাসে (মে) দুই দফায় কমেছিল মোট ৬১ টাকা ১২ পয়সা।

জ্বালানি খাতের এই দরপতনের নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়। যার ধাক্কায় মার্চে দুই দফায় ১০৭ টাকা এবং এপ্রিলে এক দফায় ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি। তবে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা কমছে।

বিইআরসির হাতে দাম নির্ধারণের নতুন নিয়ম
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের একক একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের পুরোনো ধারাটি বাতিল করে দেয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ ফুয়েলের দাম নির্ধারণের আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি)। সেই নিয়ম মেনেই ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি করে সংস্থাটি। এরপর থেকে প্রতি মাসের আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে নিয়মিত দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি।

টানা তিন মাস জেট ফুয়েলের দাম কমায় দেশের এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল্য পুনর্বিবেচনা করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।