সংসারের চাকা সচল রাখতে প্রতিদিনের মতোই জাল হাতে নদীতে নেমেছিলেন। কিন্তু উত্তাল মেঘনা যে আজ আর ফিরতে দেবে না, তা কে জানত! নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মোহাম্মদ মিলন (৫২) নামের এক জেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর শাখা খালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিলন উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে।
পানিতে ভাসছিল শুধু জাল, নিভে গেল প্রাণপ্রদীপ
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে নিঝুমদ্বীপের মুন্সি গ্রাম সংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর পাড়ে অন্য জেলেদের সাথে ঠেলা জাল নিয়ে মাছ ধরতে নামেন মিলন। জোয়ারের পানিতে মাছ ধরার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি নদীর গভীর পানির তোড়ে তলিয়ে যান।
কাছাকাছি থাকা অন্য জেলেরা নদীর গর্জন ও মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকায় শুরুতে বিষয়টি টের পাননি। বেশ কিছু সময় পার হওয়ার পর পানির ওপর মিলনের ঠেলা জালটি একা ভাসতে দেখে সহকর্মীদের মনে সন্দেহ জাগে। তখন তারা নদীতে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
তিন ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে যোগ দেন। নিখোঁজের পর দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে মেঘনার বুকে রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি। অবশেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নদীর ভাটা শুরু হলে পানি কিছুটা কমে আসে। ঠিক তখনই মিলনের নিথর দেহ পানির নিচে খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। নদী থেকে যখন তার মরদেহ তীরে তোলা হয়, তখন উপকূলজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
"ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং সুরতহাল শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহটি দাফনের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
— মোহাম্মদ কবির হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), হাতিয়া থানা।
স্বজনদের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদ
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে মিলনের পরিবারে এখন চলছে মাতম। নিঝুমদ্বীপের মোল্লা গ্রামে তার মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অভাবের সংসারে জালের টানে নদীতে গিয়ে যে এমন সলিল সমাধি হবে, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না সহকর্মী জেলেরা। আজ মঙ্গলবার পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।