মাশরাফি বিন মুর্তজার ২০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের নতুন ইতিহাস গড়লেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। অথচ এমন এক রূপকথার দিনেও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মাত্র ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। মোস্তাফিজুর রহমান শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে কেবলই হতাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ম্যাচের নায়ক নাহিদ রানাকে।
নাহিদের বোলিং তোপ ও মাশরাফির রেকর্ড ভাঙা
টস হেরে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে সপ্তম ওভারে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাঁর দুর্দান্ত এক থ্রোতে রানআউট হন বেন কারান। এরপর দৃশ্যপটে আসেন তাসকিন আহমেদ; একই ওভারের শেষ বলে বেনেট এবং নিজের পরের ওভারে ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি।
এরপরের পুরো গল্পটাই নাহিদ রানার। গতি, বাউন্স আর নিখুঁত ইয়র্কারে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। মাত্র ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকেরা। নিজের ষষ্ঠ ওভারেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ৫ উইকেট পূর্ণ করেন রানা। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। এর মাধ্যমে ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে মাশরাফির ২৬ রানে ৬ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন এই স্পিডস্টার।
রেকর্ড বুক: বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার তালিকায় মোস্তাফিজুর রহমানের (৬ বার) পরেই এখন নাহিদ রানার অবস্থান (৩ বার)।
দলকে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন এনগারাভা (২৭) ও নিয়ামুরি (৩৩)। নবম উইকেটে তাদের ৬৩ রানের প্রতিরোধ ভাঙেন সেই রানাই। জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ১৪১ রানে।
ব্যাটিং ধস ও অবিশ্বাস্য পরাজয়
১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ১৭ রানেই বিদায় নেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৫৮ বলে ২৫ রান করা হৃদয় নিয়ামুরির বাউন্সারে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে আবারও ধস নামে ইনিংসে।
১০০ রান ছোঁয়ার আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ ভরসা হিসেবে থাকা সোহান ৪৪ বলে ৩১ রান করে এলবিডব্লুর শিকার হন। এরপর টেল এন্ডাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি। ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
আগামী ৯ জুলাই একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ৩৬.৪ ওভারে ১৪১/১০ (নিয়ামুরি ৩৩, এনগারাভা ২৭, কাইয়া ২৬; নাহিদ ৬/২১, তাসকিন ৩/৩২, মিরাজ ১/২২)
বাংলাদেশ: ৩৩.১ ওভারে ১১৬/১০ (সোহান ৩১, হৃদয় ২৫, মিরাজ ১০; ইভান্স ৩/৩৪, এনগারাভা ৩/৩১, মুজারাবানি ২/২৪)
ফলাফল: জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী।