৫ জুলাই, ২০২৬

হালান্ডকে রুখতে ‘বাজপাখির চোখ’ লাগবে ব্রাজিলের

হালান্ডকে রুখতে ‘বাজপাখির চোখ’ লাগবে ব্রাজিলের

বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায় যখন কাতার বিশ্বকাপের (নকআউট পর্বের শেষ ষোলো) মহারণে ব্রাজিলের সামনে এসে দাঁড়াবে নরওয়ে, তখন ফুটবলপ্রেমীদের সব আলো হয়তো কেড়ে নেবেন একজনই—আর্লিং হলান্ড। গোলবক্সের সামনে এই নরওয়েজীয় তারকার খুনে মেজাজ যতটা ভীতিজাগানিয়া, মাঠের সবুজ ঘাসে তাঁর চিতার মতো গতি ডিফেন্ডারদের জন্য ততটাই দুঃস্বপ্ন।

ফিফার সর্বশেষ ‘ম্যাচ ট্র্যাকিং’ প্রযুক্তির যে উপাত্ত সামনে এসেছে, তা ব্রাজিলের থিংক ট্যাংকের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর করার জন্য যথেষ্ট। চলতি বিশ্বকাপে হলান্ড যেন গতির এক জীবন্ত দৈত্য। ইরাকের বিপক্ষে এক ম্যাচে তিনি ডিফেন্ডারদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সর্বোচ্চ ৩৬.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটেছেন। এমনকি সেনেগালের বিপক্ষেও তাঁর গতি ছুঁয়েছিল ৩৫.২ কিলোমিটার। কেবল ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকায় ফরাসি ডিফেন্ডাররা এই গতির ঝড় থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

বিপরীতে, সাম্বার দেশের গতিদানবদের দিকে তাকালে হিসেবটা কিছুটা মলিন দেখায়। ব্রাজিলের তাঁবুতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরে পা চালিয়েছেন যিনি, তিনি কোনো উইঙ্গার বা স্ট্রাইকার নন—ডিফেন্ডার দানিলো। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল ৩৪.২ কিলোমিটার। আর যাকে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রধান ‘গতির রাজা’ ভাবা হচ্ছে, সেই ভিনিসিউস জুনিয়র তুলতে পেরেছেন মাত্র ৩৪.১ কিলোমিটার। বাকিদের মধ্যে মার্কিনিয়োস (৩৩.৮ কিমি) ও রাফিনিয়া (৩৩.৩ কিমি) গতির রেসে বেশ পিছিয়ে।

সহজ অঙ্কের হিসেব বলছে, হলান্ড যখন বল নিয়ে তাঁর সর্বোচ্চ গতিতে ছুটবেন, তখন ব্রাজিলের দ্রুততম খেলোয়াড় দানিলোও তাঁর চেয়ে অন্তত ২.৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পিছিয়ে থাকবেন। অর্থাৎ, মাঠের লড়াইটা যদি কেবল গতির রেস হয়, তবে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারদের কেবল হলান্ডের পিঠের জার্সিটাই দেখে যেতে হবে।

তবে ফুটবল তো আর অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ১০০ মিটারের স্প্রিন্ট নয় যে, শুধু জোরে দৌড়ালেই ট্রফি নিশ্চিত। এটি মূলত ট্যাকটিকস আর বুদ্ধির দাবার চাল। হলান্ডকে বোতলবন্দী করতে হলে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কেবল অন্ধের মতো দৌড়ালে চলবে না; দরকার বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ চোখ আর ইস্পাতকঠিন জোন-মার্কিং।

সেলেসাওদের মূল চ্যালেঞ্জ আজ হলান্ডের সঙ্গে দৌড়ের পাল্লা দেওয়া নয়, বরং নরওয়ের মাঝমাঠ থেকে বল যাতে এই ‘গোলমেশিন’-এর পা পর্যন্ত পৌঁছাতেই না পারে—সেই সাপ্লাই লাইন পুরোপুরি কেটে দেওয়া।

এখন দেখার বিষয়, আজ রাতে সেলেসাওরা নরওয়েজীয় এই ‘গতিদানব’কে নিজেদের রক্ষণব্যুহে বন্দী করতে পারে, নাকি হলান্ডের গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন।