বিশ্বকাপের মঞ্চে পুঁচকে কেপ ভার্দের কাছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার যেভাবে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তা দেখে ফুটবল দুনিয়ায় এখন নতুন এক রোমাঞ্চকর আলোচনা শুরু হয়েছে। মাঠের সেই অবিশ্বাস্য লড়াই যেন ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আরেক চিরন্তন অমীমাংসিত বৈরিতা—ব্রাজিল বনাম নরওয়ে! কেপ ভার্দের এই বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের পর ফুটবল বিশ্লেষকেরা রসাত্মক কিন্তু যৌক্তিক এক সমীকরণ মেলাচ্ছেন: আফ্রিকার এই পুঁচকে দলটি যদি আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট তটস্থ রাখতে পারে, তবে নরওয়ের মুখোমুখি হলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পরিস্থিতি ঠিক কতটা করুণ হতে পারে?
ফুটবল ইতিহাসের এক অদ্ভুত কিন্তু সত্য পরিসংখ্যান হলো—ব্রাজিল আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি। তাই কেপ ভার্দের এমন অসমসাহসী পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল মহলে আলোচনা জমে উঠেছে, বর্তমান ফুটবল বাস্তবতায় এই দুই দল মুখোমুখি হলে মাঠের চিত্রটা কেমন হতে পারে।
পরিসংখ্যানের সেই 'ভূত' এবং ব্রাজিলের অস্বস্তি
ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিলকে ধরা হয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। কিন্তু ইউরোপের দেশ নরওয়ে যেন সেলেসাওদের জন্য এক চিরন্তন ধাঁধা। দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য বেশ বিব্রতকর:
মোট ম্যাচ: ৪টি
নরওয়ের জয়: ২টিতে
ড্র: ২ ম্যাচ
ব্রাজিলের জয়: ০!
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলের ঐতিহাসিক হার এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে গণ্য হয়। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ব্রাজিল কখনো সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বা সামর্থ্য করে উঠতে পারেনি।
কেপ ভার্দে যেভাবে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিল
বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দে যেভাবে লিসান্দ্রো মার্তিনেস বা লিওনেল মেসিদের রক্ষণভাগকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দু-দুবার সমতায় ফিরেছিল, তা প্রমাণ করে আধুনিক ফুটবলে 'ছোট দল' বলে কিছু নেই। আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি যদি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খাদের কিনারে নিয়ে যেতে পারে, তবে আর্লিং হালান্দ বা মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গঠিত বর্তমান নরওয়ে দল মাঠে নামলে ব্রাজিলের নড়বড়ে ডিফেন্সের কী দশা হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের যে অধারাবাহিকতা এবং প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবল ও হাই-প্রেসিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে, তাতে নরওয়ের গতি ও পাওয়ার ফুটবলের সামনে সেলেসাওরা যে চরম বিপদে পড়বে, সেই ইঙ্গিতই যেন পরোক্ষভাবে দিয়ে গেল কেপ ভার্দে।
ফুটবল রোমান্টিকদের অপেক্ষা
কেপ ভার্দের এই রূপকথা বিশ্বফুটবলকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, কাগজে-কলমে থাকা শক্তির ব্যবধান মাঠের ৯০ মিনিটে স্রেফ ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। আর্জেন্টিনা কোনোমতে ভাগ্যের জোরে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে বেঁচে গেলেও, ফুটবলপ্রেমীরা এখন মুখিয়ে আছেন ব্রাজিল বনাম নরওয়ের পরবর্তী লড়াই দেখার জন্য। কেপ ভার্দে যদি আর্জেন্টিনাকে কাঁপাতে পারে, তবে নরওয়ে যে ব্রাজিলকে আবার স্তব্ধ করার সামর্থ্য রাখে—সেই আলোচনা এখন ফুটবল পাড়ায় বেশ তুঙ্গে!