৩ জুলাই, ২০২৬

মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাঁথিয়া থানা পুলিশের এই মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির হাতেনাতে অপরাধে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সাব্বির হোসেন (১৯), মনসুর আহমেদ (৩৩), বেলাল হোসেন (৩১) এবং মোছা. বৃষ্টি খাতুন (৩০)।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ঝটিকা আদালত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্পটে মাদক চক্র সক্রিয় হওয়ার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাঁথিয়া থানা পুলিশ শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযান শেষে আটককৃতদের সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্নার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের সামনে আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্না মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় চার আসামির প্রত্যেককে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সাথে নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

মাদকবিরোধী অভিযান চলবে: ওসি
অভিযানের বিষয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, "তরুণ সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে আমাদের এই বিশেষ অভিযান। সাঁথিয়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান কোনো অবস্থাতেই থামবে না।"

তিনি আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া ও রায় ঘোষণা শেষে আজ বিকেলেই দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের সাথে জড়িত মূল হোতাদের ধরতেও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: মফস্বল শহরগুলোতে মাদকের বিস্তার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি। তরুণদের পাশাপাশি নারীদেরও এই অন্ধকার জগতে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাঁথিয়া প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক সাজা ও কঠোর অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে কেবল খুচরা বিক্রেতা বা সেবীদের সাজা দিয়ে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়; মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহকারীদের গোঁড়া কেটে দেওয়াটাই এখন সময়ের দাবি।