নাটোরের বনপাড়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার এক বিশাল উন্নয়নযজ্ঞের সূচনা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (RUTDP)-এর আওতায় পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কার্পেটিং, আরসিসি ড্রেন নির্মাণ এবং আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেগা উন্নয়নকাজের শুভ ফলক উন্মোচন করেন।
কী থাকছে এই সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রকল্পে?
বনপাড়া পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মহিষভাঙ্গা কাশেম শাহের পুকুর থেকে মহিষভাঙ্গা বটতলা পর্যন্ত চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কসহ (লিংক রোড) মোট ৩ হাজার ৫৬৬ মিটার সড়কে টেকসই বিটুমিনাস কার্পেটিং করা হবে।
পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করতে নির্মাণ করা হবে ২ হাজার ১৫৩ মিটার দীর্ঘ আরসিসি (RCC) ড্রেন। এছাড়া, রাতের বেলা পৌরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে বসানো হবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সড়কবাতি (স্ট্রিট লাইট)।
বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের নেপথ্যে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৩ হাজার ৬২ টাকা ৮০ পয়সা। তবে দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ মূল্যায়ন শেষে এর চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয় ৮ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৩ টাকা ৭৩ পয়সা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং এলজিইডির ব্যবস্থাপনায় এই পুরো নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজ’।
এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বনপাড়া পৌর প্রশাসক মো. জুবায়ের জাহাঙ্গীর, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হাফসা শারমিন, পৌর প্রকৌশলী মো. জুবায়ের মাহবুব, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন কুমার শীল ও রাউফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজন।
অবসান ঘটবে মহিষভাঙ্গার জলাবদ্ধতার
উদ্বোধনী সভায় বক্তারা বলেন, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মহিষভাঙ্গা ও আশপাশের বিশাল এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নোংরা পানির যে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো, আরসিসি ড্রেন নির্মাণের ফলে তা আর থাকবে না। আধুনিক সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে রাতের পৌরসভা আরও আলোকিত ও নিরাপদ হয়ে উঠবে, যা সার্বিকভাবে বনপাড়া পৌরবাসীর নাগরিক সেবার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: মফস্বল শহরগুলোর টেকসই উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার এই অর্থায়ন অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার নজির কম নয়। বনপাড়া পৌরসভার এই সাড়ে আট কোটি টাকার প্রকল্প যেন কেবল কাগজে-কলমে আধুনিক না হয়ে, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়—পৌরবাসীর এখন সেটাই মূল প্রত্যাশা।