৩ জুলাই, ২০২৬

কবিরহাটে ২২০ অসহায় নারীর মুখে আনন্দের হাসি

কবিরহাটে ২২০ অসহায় নারীর মুখে আনন্দের হাসি

চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে উৎসবের আমেজ নামল নোয়াখালীর কবিরহাটের ২২০টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় আজ শুক্রবার দুপুরে এসব সুবিধাবঞ্চিত নারীর হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পাওয়া এই অতর্কিত উপহারে উপকারভোগী নারীদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও আনন্দের হিল্লোল।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ফখরুল ইসলামের বিশেষ তত্ত্বাবধানে এই অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এই মানবিক সহায়তার সুফল পেয়েছেন নোয়াখালীর কয়েকটি অঞ্চলের প্রান্তিক নারীরা। এর মধ্যে কবিরহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৪০ জন, কবিরহাট পৌরসভার ৪০ জন এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪০ জনসহ সর্বমোট ২২০ জন বাছাইকৃত অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে এই অনুদানের নগদ অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, "দেশের একটি মানুষও যেন অনাহারে বা বিনা চিকিৎসায় কষ্ট না পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এই সরকারের মূল দর্শন। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এই ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী সহায়তা কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজ মঞ্জু, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামালসহ স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা প্রায়শই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সরাসরি প্রান্তিক নারীদের হাতে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। তবে এই ধরনের অনুদান যাতে কেবল সাময়িক স্বস্তি না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা তৈরি করতে পারে, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।