৩ জুলাই, ২০২৬

হ্যারি কেইনদের ঘুমাতে দিতে বিশেষ দাওয়াই ইংল্যান্ড শিবিরে

হ্যারি কেইনদের ঘুমাতে দিতে বিশেষ দাওয়াই ইংল্যান্ড শিবিরে

ফুটবল কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এটি আসলে ‘২৪ ঘণ্টা’র এক মানসিক খেলা। মাঠে বুটের জাদু দেখাতে হলে মাঠের বাইরে চাই নিটোল ঘুম আর নিখুঁত বিশ্রাম। কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরের ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়! তবে সেটি কোনো কৌশলী ছকের কারণে নয়, বরং মেক্সিকান সমর্থকদের ‘হুডলুম’ সংস্কৃতি এবং মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক উচ্চতার ভয়ে। পরিস্থিতি সামলাতে ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য এবার বিশেষ ‘ঘুমের দাওয়াই’ ও ‘হোয়াইট নয়েজ’ মেশিনের ব্যবস্থা করছে দলটির ম্যানেজমেন্ট।

আগামী সোমবার ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের আগে মেক্সিকো সিটিতে দুই রাত কাটাবে হ্যারি কেইনের দল। আর এই দুই রাতেই থাবা বসাতে পারে মেক্সিকান সমর্থকেরা—এমনটাই আশঙ্কা করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

ইকুয়েডর ট্র্যাজেডি ও ইংল্যান্ডের ‘গোপন মিশন’
বিশ্বকাপের ২০ দিন পার হওয়ার পর হঠাৎ কেন ইংলিশদের ঘুম নিয়ে এত হুলুস্থুল? এর নেপথ্যে রয়েছে শেষ ৩২-এর একটি ঘটনা। মেক্সিকোর আগের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ঠুকে জানিয়েছে, গভীর রাতে মেক্সিকান সমর্থকেরা তাদের হোটেলের সামনে লাউডস্পিকার, হর্ন ও মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ তৈরি করে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলোয়াড়দের জাগিয়ে রেখেছিল।

ইকুয়েডর মেক্সিকো সিটির ওয়েস্টিন হোটেলে থাকলেও, ইংল্যান্ড দল এবার চরম সতর্ক। তারা তাদের হোটেলের নাম কঠোরভাবে গোপন রেখেছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনোভাবে এই লোকেশন ফাঁস হয়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে থমাস টুখেলের শিষ্যদের। সে কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য ইয়ার প্লাগ, স্লিপ ব্যান্ড এবং প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধের পাশাপাশি ‘হোয়াইট নয়েজ’ অডিও মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বাইরের কোলাহলকে আটকে রেখে গভীর ঘুমে সাহায্য করবে।

আজতেকার ২,২৪০ মিটার উচ্চতা: টুখেলের বড় উদ্বেগ
ঘুমের ব্যাঘাত ছাড়াও ইংল্যান্ডের সামনে রয়েছে প্রকৃতির এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। মেক্সিকো সিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত, যেখানে বাতাসের ঘনত্ব এবং অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশ কম। সাধারণত সমতলে খেলা ফুটবলাররা হুট করে এই উচ্চতায় খেললে দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠেন, যা পারফরম্যান্সে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী নকআউটের আগে ভেন্যুর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে মেক্সিকো সিটিতেই অনুশীলন করতে হচ্ছে হ্যারি কেইনদের, যা তারা আগে কানসাসে করতো। এত কম সময়ে এই বৈরী আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া অসম্ভব বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের ডাগআউটে বসা মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেল।

টুখেল তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, "এই উচ্চতা আমাদের জন্য একটি বিশাল অসুবিধা। শারীরিকভাবে এর সাথে মানিয়ে নিতে চার দিন মোটেও যথেষ্ট নয়, এটি অসম্ভব। তবে যত বাধাই আসুক, আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।"

ঘরের মাঠে চনমনে মেক্সিকো
ইংল্যান্ড যখন অক্সিজেন আর ঘুম নিয়ে চিন্তিত, মেক্সিকো তখন ডানা মেলছে ঘরের মাঠের চেনা হাওয়ায়। বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা ৪টি ম্যাচের ৩টিই তারা খেলেছে আজতেকা স্টেডিয়ামে, আর অন্যটি গুয়াদালাহারায় (যা ১,৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত)। ফলে এই উচ্চতা ও কম অক্সিজেনে খেলার অভিজ্ঞতা মেক্সিকানদের জন্য ডালভাত। প্রতিপক্ষের এই বাড়তি সুবিধার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়ে ইংলিশ কোচ বলেন, "আমরা ম্যাচের মাঝে মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছি। এই কন্ডিশন মেক্সিকোকে ঘরের মাঠে এক বিশাল সুবিধা দেবে।"

মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে স্নায়ু ধরে রাখাই শেষ কথা। মেক্সিকোর চেনা কন্ডিশন আর গ্যালারির গর্জন এমনিতেই অতিথিদের জন্য যম। তার ওপর মাঠের বাইরের ‘নয়েজ পলিউশন’ যদি কেইন-বেলিনহামদের ক্লান্ত করে দেয়, তবে আজতেকার আসমানে থ্রি লায়ন্সের সূর্য অস্ত যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট নয়েজ মেশিন বনাম মেক্সিকান হর্নের এই অঘোষিত লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে!