ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের জোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে দফায় দফায় জানাজা ও শোকযাত্রার মাধ্যমে তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে এটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শক্তিধর ইরানি নেতা প্রাণ হারান।
৫টি ঐতিহাসিক শহরে শেষ শ্রদ্ধা ও দাফন কর্মসূচি
প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূচি অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা বিস্তৃত হবে প্রতিবেশী ইরাকেও।
৪ জুলাই (তেহরান): রাজধানী তেহরানে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
কোম (ইরান): তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের অন্যতম পবিত্র শহর কোমে।
নাজাফ ও কারবালা (ইরাক): কোম থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র শহর নাজাফ এবং কারবালায়। সেখানেও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।
৯ জুলাই (মাসহাদ): কারবালা থেকে আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে তাঁর জন্মস্থান মাসহাদে। সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতার শেষ বিদায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলজাজিরার সূত্রমতে, ইতিমধ্যে পাকিস্তান, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান সরকার। বাংলাদেশ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারে বলে জানা গেছে।