চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৩৬ শতাংশেরই অংশ না নেওয়াকে অত্যন্ত নেতিবাচক ও উদ্বেগজনক সূচক (ব্যাড ইন্ডিকেটর) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
ঝরে পড়ার হারে নতুন রেকর্ড
আজ থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ, নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখই পরীক্ষা দিচ্ছেন না।
গত বছর এই ঝরে পড়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসায় ধস
ঝরে পড়ার এই বিশাল পরিসংখ্যানকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এসএসসির পর এইচএসসিতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়। যার পেছনে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া বা ছেলেদের পরিবারের হাল ধরতে কাজে যুক্ত হওয়ার মতো কারণ থাকে। কিন্তু এবার দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৩ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। এটি সত্যিই অনেক বড় সংখ্যা।”
কেন এই অনুপস্থিতি?
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না দেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পড়াশোনা না হলেও পরীক্ষা অত্যন্ত কঠোর ও সঠিকভাবে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সব ধরনের অন্যায্য সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। বিগত দিনগুলোর মতো প্রস্তুতি ছাড়া পার পাওয়ার সুযোগ না থাকায়, অনেক শিক্ষার্থীই হয়তো পরীক্ষায় বসার সাহস পায়নি।
তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এটি খুব খারাপ একটি সূচক। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য আগামীতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়।”