নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় অবশেষে সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়েছেন যুবদল নেতা আশ্রাফ উদ্দিন (৪০)। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় তাকে দলীয় পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃত আশ্রাফ উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
জেলা যুবদলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আশ্রাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়, আশ্রাফের এই ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার দল কোনোভাবেই নেবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশ্রাফ উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার এক নারীকে নিয়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন ওই ঘর ঘেরাও করে তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে তাদের ঘর থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে আসা হয় এবং উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টির পর রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও পুলিশকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।