১ জুলাই, ২০২৬

ধসে পড়েছে সেতু, বাঁশের সাঁকোয় চলাচল করছে ধুনটের হাজারো মানুষ

ধসে পড়েছে সেতু, বাঁশের সাঁকোয় চলাচল করছে ধুনটের হাজারো মানুষ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী-হেউটনগর সড়কের চরকাদহ খালের ওপর ধসে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির পাশে অবশেষে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারী ও হালকা যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জরুরি ভিত্তিতে এই সাঁকোটি নির্মাণ করে।

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে সাঁকোটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই স্থানীয়রা পায়ে হেঁটে পারাপারের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাতায়াত করছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে হলেও খালের দুপাড়ের কয়েক হাজার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে গত ২২ জুন সকালের দিকে ভারী বর্ষণ ও খালের পানির প্রবল স্রোতে সেতুটির নিচের মাটি সরে গিয়ে সেটি ধসে পড়ে এবং মূল সড়ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে নিমগাছী-হেউটনগর গ্রামীণ সড়কের চরকাদহ খালের ওপর প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটির কারণে নিমগাছী ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের মানুষের মাঝে যোগাযোগের এক সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়। বিশেষ করে খালের দুই তীরের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা এবং তা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সেতুটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। দিনে দিনে এই পথে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ সড়কটির গুরুত্বও অনেক বেড়ে যায়।

কান্তনগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক তবিবর রহমান জানান, চরকাদহ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এক সপ্তাহে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করেন, যারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। সাঁকোটি নির্মাণ করায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও, ভারী ও বড় যানবাহন চলাচলের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, "পুরনো সেতুটি দেবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আমরা ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি। এছাড়া ওই স্থানে একটি নতুন ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।"