কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে চিলমারী ইউনিয়ন। গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই গিলে খেয়েছে রাক্ষুসী ব্রহ্মপুত্র। এর মধ্যে শুধু সোমবার ভোরে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ২৫টি বসতঘর। ভাঙনের তীব্রতায় ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব মানুষগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল ও বিশারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় চারদিকে শুধু হাহাকার। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে তলিয়ে গেছে প্রায় ৪০০ পরিবার।
ভিটেমাটি হারানো বিশারপাড়া গ্রামের শাহিন মিয়া, তোফায়েল ও মুকুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের সাজানো সংসার কেড়ে নিয়েছে। লাখ লাখ টাকার সম্পদ এখন নদীতে। আমরা ত্রাণ চাই না, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।"
বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মনতলা ও ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় বাজার এবং একটি নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছরে এই ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে চিলমারীর একটি বড় অংশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চরাঞ্চলের এই বিশাল ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। জরুরি ভিত্তিতে মাত্র ১ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।"
ত্রাণ নয়, চিলমারীর মানুষের এখন একটাই দাবি—ব্রহ্মপুত্রের এই করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে স্থায়ী ও কার্যকর নদীশাসন।