নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হওয়ার ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। গতকাল সোমবার রাতে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
নিহত হামিদুর রহমান জাহাঙ্গীর উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি ছাড়াও তিনি স্থানীয় কালীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ ও হামলা বৃত্তান্ত
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, হামিদুর রহমান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়াই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর প্রায় এক মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গত ৩ জুন কালীগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁর ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। হামলায় তাঁর দুটি পা-ই ভেঙে যায় এবং তিনি পুরোপুরি চলাচলের সক্ষমতা হারান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দাবি, হামলার পর নলডাঙ্গা থানায় জানানো হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর কারণে নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগ অস্বীকার বিএনপির
হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,
"হামিদুর রহমানকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী মোটেও জড়িত নন। বর্তমান সরকারের সময়ে আমাদের জানামতে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, সে সম্পর্কেও আমরা অবগত নই।"
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, হামিদুর রহমানকে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশ্য বাজারে একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বর হামলার পর বিচারহীনতা নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।