ঝড়ো হাওয়া আর বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে এক অবুঝ শিশুর শৈশবকে বিষাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের আহমদিয়া বাজারের মোজাফফর নূরানী মাদরাসায় ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষেই যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আনসার উদ্দিনকে গণধোলাই দিয়ে জুতার মালা পরিয়ে পুরো এলাকায় ঘুরিয়েছে। ঘটনার পরপরই তাকে মাদরাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে আকাশ মেঘলা থাকায় মাদরাসায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা মাত্র ১০ জন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ক্লাস ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অন্য সব শিশু শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেও, এক শিশুর সামনেই ভুক্তভোগী শিশুটিকে আটকে রেখে তার শরীরে কু-মতলবে স্পর্শ করেন সহকারী শিক্ষক আনসার উদ্দিন।
ভয়ার্ত শিশুটি কোনোমতে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মায়ের কাছে শিক্ষকের এই পৈশাচিক আচরণের কথা খুলে বলে। ঘটনা শুনে স্তব্ধ হয়ে যান বাবা-মা। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির বাবা স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে মাদরাসায় হাজির হন।
শিক্ষকের এমন জঘন্য কর্মের কথা ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুরো আহমদিয়া বাজার এলাকায় ঘোরায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বৈঠকে বসে স্থানীয় বাজার কমিটি, মসজিদ কমিটি ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদ। সবার উপস্থিতিতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মাওলানা আনসার উদ্দিনকে মাদরাসা থেকে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। মাদরাসার প্রধান মাওলানা শামছুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি পারিবারিকভাবে 'সমাধান' করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে খবর পেয়ে হাতিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছে। তবে রহস্যজনক কারণে শিশুর পরিবার এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।