এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের দল ‘ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুয়াইরা’র হয়ে খেলা এই ফুটবলার গত তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। রোববার তার পুরো পরিবারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার ক্লাব।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ‘টুইন আর্থকুয়েক’ বা জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
সিএনএন এস্পানিওলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় ৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার রাজধানী কারাকাসে দলের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ছিলেন। ভূমিকম্পের খবর পেয়েই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানী থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তরে লা গুয়াইরায় নিজের সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। বহুতল ভবনটি ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
ত্রেহোর শ্যালক রিকার্দো আরদিলেস জানান, সেখানে কিছুই আর দাঁড়িয়ে ছিল না। তারা আশা করেছিলেন পরিবারটি যেন ভেতরে না থাকে। কিন্তু নিখোঁজ স্ত্রী ইয়ানিনা, সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার খোঁজে ত্রেহো নিজেই ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবনের চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করেন। ভারী যন্ত্রপাতির অভাব থাকায় ত্রেহোর বন্ধু ও মেত্রোপলিতানোস এফসির খেলোয়াড় রবার্ট গার্সেসসহ সতীর্থরা আরও বেশি উদ্ধারকারী যন্ত্র চেয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে আকুতি জানিয়েছিলেন।
তবে সব আকুতি ও আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে রোববার রাতে আসে সেই হৃদয়বিদারক খবর। ‘ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুয়াইরা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারজনের হাস্যোজ্জ্বল একটি পারিবারিক ছবি পোস্ট করে ত্রেহোর স্ত্রী ও সন্তানদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
শ্যালক রিকার্দো আরদিলেস জানিয়েছেন, চোখের সামনে চোখের পলকে পুরো পরিবার হারিয়ে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টিনার এই ফুটবলার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো ভেনেজুয়েলা ও আর্জেন্টিনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।