২৯ জুন, ২০২৬

লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষি

লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষি

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় দিন দিন বাড়ছে লবণাক্ততার আগ্রাসন। এর প্রভাবে কৃষিজমি, নিরাপদ পানির উৎস এবং খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় পরিবেশবান্ধব কৃষি, সমন্বিত চাষাবাদ এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘খাদ্য ব্যবস্থা, উপকূলীয় বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজি: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তারা এই আহবান জানান।

গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানে লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। ফলে আগের মতো অনেক ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কৃষকদের চাষাবাদের ধরনও বাধ্য হয়ে পরিবর্তন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকূলের বহু মানুষ তীব্র নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছেন। অনেক পরিবারকে এখন চড়া দামে পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় নতুন সংকট তৈরি করছে।

কৃষিতে লৈঙ্গিক বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, কৃষিকাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। তাই কৃষিতে নারীর অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সমন্বিত চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে। সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনকে রক্ষা করা সম্ভব বলেও মত দেন তারা।

সংলাপে বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শাহিন ইসলাম উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেই সংকটের সমাধান হবে না। এমন এক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মাটি, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে, কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পান এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য পায়। এজন্য স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমন্বিত চাষাবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষক ও পরিবেশ উভয়কেই সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।

সাতক্ষীরার কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার, কৃষক, গবেষক, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার, নাগরিক নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, নাগরিক নেতা ও সাংবাদিক এম. কামরুজ্জামান, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরামের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের ইফতি জামিল, বারসিকের সহকারী সমন্বয়কারী শাহেদা আজবেলা এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি অফিসার আমরীন বিনতে আজাদ।