২৭ জুন, ২০২৬

‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’: ফেসবুকে মাহফুজ আলমের রহস্যময় পোস্ট

‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’: ফেসবুকে মাহফুজ আলমের রহস্যময় পোস্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রহস্যময় পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট পক্ষ বা ঘটনার উল্লেখ না করে নিজেকে সম্ভাব্য প্রথম 'বলির পাঁঠা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সবাইকে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এড়িয়ে সর্বোচ্চ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই পোস্টে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।

ভীতিকর সতর্কবার্তা ও ঐক্যের আহ্বান
পোস্টের শুরুতেই এক তীব্র আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে মাহফুজ আলম লেখেন, "আমি প্রথম বলির পাঁঠা বা টার্গেট হতে পারি, কিন্তু শেষ নই। একে একে আপনাদের সবাইকে টার্গেট করা হবে। এর পরিণতি আপনারা সামাল দিতে পারবেন না।"

ভবিষ্যৎ পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, "শত্রুর সেবা করে কেউ বলির পাঁঠা হবেন না। বলির পাঁঠাদের শেষ পর্যন্ত উৎসর্গ করা হয়। সব ধরনের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এড়িয়ে চলুন। সর্বোচ্চ ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করুন।"

দার্শনিক তত্ত্বের অবতারণা
নিজের বক্তব্যের গভীরতা বোঝাতে সাবেক এই উপদেষ্টা জার্মান-আমেরিকান বিখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পিটার থিয়েলের একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সম্ভবত প্রতিটি আধুনিক রাজাই এমন এক বলির পাঁঠা, যে কেবল নিজের মৃত্যুদণ্ড কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দিতে পেরেছে।’ একই সঙ্গে নিজের অনুসারী ও পাঠকদের মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব বুঝতে ফরাসি দার্শনিক রেনে জিরারের বই পড়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

অস্পষ্ট প্রেক্ষাপট ও জনমনে কৌতূহল
মাহফুজ আলমের এই বিস্ফোরক ও মনস্তাত্ত্বিক পোস্টের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুরো পোস্টে তিনি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক সংকটের কথা স্পষ্ট করেননি। ঠিক কোন অদৃশ্য শক্তি বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণের প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেকে এবং অন্যদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই হুঁশিয়ারি দিলেন—তা নিয়ে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।