২৭ জুন, ২০২৬

ইতালির রোমে নোয়াখালীর একই পরিবারের ৩ জনকে নিশংস খুন

ইতালির রোমে নোয়াখালীর একই পরিবারের ৩ জনকে নিশংস খুন

ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও শিশু কন্যাসন্তানসহ নির্মমভাবে খুন হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কামাল উদ্দিন বাবুলকে (৩৯) প্রায় এক বছর আগেই হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠিয়ে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম। সুদূর ইতালির মাটিতে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার এই খবরে গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার সুষ্ঠু আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব বেদনাবিধুর দৃশ্য। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। শোকাহত পরিবারটিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা স্বজনরা।

নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "প্রায় এক বছর আগে আমার ছেলে যখন দেশে এসেছিল, তখন তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়। বিষয়টি আমরা সে সময়ই মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম।"

তিনি আরও দাবি করেন, শুক্রবার (২৬ ২৬ জুন) ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে নিহত বাবুলেরই বন্ধু এবং একই গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী শাহাদাত জড়িত রয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে।

এই ভয়ংকর হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮), তাদের ৫ বছর বয়সী অবুজ কন্যা আরওয়া ইসলাম আরিশা।

একই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অয়ন বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা জরুরি ভিত্তিতে পুলিশে খবর দেন। দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ইতালীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। খবর পেয়ে রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছেন।

হুমকির চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি মৌখিকভাবে পুলিশকে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছিল। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

প্রবাসী এই পরিবারের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে নোয়াখালীর চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে অন্ধকার। এখন দেখার বিষয়, ইতালির আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এই উড়ো চিঠির সূত্র ধরে এবং মূল অভিযুক্ত শাহাদাতকে আইনের আওতায় এনে কত দ্রুত এই ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে।